
বাবাকে ছাড়া আমার সারাদিন কাটবে এটা এখন ভাবতেই কষ্ট হয়, আব্বু আমাকে ছাড়া কিছু বুঝতো না, আমিও তাকে ছাড়া কিছু বুঝতাম না। সবসময় সবকিছু শেয়ার করতাম। সবকিছু আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতাম। তিনিও সব দুঃখ কষ্ট শেয়ার করতো আমিও করতাম। হয়তো সব মেয়েরই একই অনুভূতি। কিন্তু যার যায় সে-ই বোঝে। যে কোন সিদ্ধান্তে আব্বুকেই প্রথম ভাবতাম। আমি এত বাবা পাগল মেয়ে ছিলাম, যে সবাই আমাকে দুষ্টুমি করে রাগানোর চেষ্টা করতো।
আজ কোন ডিসিসান নেওয়ার সময়ই আব্বুকে খুব বেশী মিস করি। আব্বুর পার্সোনালিটিটা আমার কাছে খুব স্পেশাল। উনি আমার আদর্শ। দেখা গেছে যে, আব্বু থাকাবস্থায় আমাদের যেই প্রাধান্যটা ছিলো সব জায়গায়, এখন খুব আপন মানুষই খুব অপরিচিত হয়েছে। আমরা যার যার যেরকমই ছিলাম সেরকমই আছি। মিডিয়ার অনেক মানুষের কাছেই। কিন্তু আব্বু চলে যাবার পর তাদের যে এই দুরত্ব তা খুবই অবাক করে। আজ বাবার মৃত্যুবার্ষিকী নিয়ে এতসব চ্যানেল, সাংবাদিকদের থেকে ডাক পড়ছে। সবই যেন স্বার্থের এক চরম ব্যবহার। আমাদের মানসিকতার এই চরম স্খলন সত্যিই খুব কষ্ট দেয়। হয়তো এটাই বাস্তবতা! যা মেনে নেয়া খুবই কঠিন। মাঝখানে একটা বছর সবাই খুব চুপচাপ। খুব ঘনিষ্ঠ জনরাই ওনার অবর্তমানে অপরিচিত হয়ে গেছে। আমার দুই সন্তানদের নিয়ে আব্বুর অবসর সময়টা খুব কাটতো। একই বিল্ডিংয়ের দুই ফ্লোরে আমরা থাকতাম। আমার ছেলেদের পাঠিয়ে দিতাম। খেলা করতো ওরা ওদের নানুর সাথে। বাহিরে যাওয়ার সময় আব্বুর সাথে দেখা করে যেতাম, আসার সময় দেখা করতাম। আমার আর বাপের বাড়ী বলে কিছু থাকলো না। ওখানে গেলেই খুব খারাপ লাগে। বড় ছবিটা দেখি মাঝে মাঝে, মনে হয় আব্বুর বুকে ব্যথা দিয়েছি, রান্নার ব্যাপারে কিছু হলে, খুশি হলে মাথায় হাত দিতো। এখন মাথায় হাত দেওয়ার মতোও কেউ নেই। রাঁধতেও ভাল লাগেনা। আমার বাচ্চারাও নানাকে অনেক মিস করছে, নানার আদর থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আব্বুর ইচ্ছে ছিলো আমি কিছু করি। ভাবছিলাম বাচ্চারা বড় হয়ে গেলে কিছু করবো। কিন্তু এখন জানিনা আসলে কি পারবো বা কতটুকু পারবো।
আব্বুকে নিয়ে একটা ডকুমেন্টারী করেছিলাম। আমি যেই ভার্সিটিতে পড়েছি, সেখানকার অনেক শিক্ষক আব্বুর সহকর্মী, তারা আব্বুকে নিয়ে ক্লাসে অনেক প্রশংসা করতো, এগুলো বাসায় এসে আব্বুর সাথে শেয়ার করতাম। এখন এগুলোও পারি না।
ঐসময়গুলো খুবই গর্বের। আব্বু খুব অসুস্থ ছিলো শুনতো, একটা মিস্টি করে হাসি দিতো, সেই হাসিটাই আমার সামনে আছে।
বুলবুল আহমেদ এর মেয়ে আসছে, মেয়ে আসছে, একটা বিশেষত্ব থাকতো আগে। তা যেন হঠাত্ করেই মিইয়ে গেল। এ কেমনতর আচরণ। এই কঠিন বাস্তবতা মেনে নেয়া বড় কঠিন। তবে কি সবার আচরণই এক কঠিন অভিনয়। একটা বড় ধোঁকা!
এক বছর কেটে গেলো, ভাবাই যায় না আব্বুকে ছাড়া। কথা বলিনি আব্বুর সাথে একটা বছর। আব্বুর জিনিস নিয়ে ইদানিং ঘাটাঘাটি করছি, একটু পরপরই কেঁদে উঠি। দোয়া করি আব্বু যেনো ভালো থাকে, আমাদেরকে যেভাবে সুশিক্ষা দিয়েছে আমরা যেনো আমাদের সন্তানকে সুশিক্ষা দিয়ে মানুষ করতে পারি। আব্বু এতো সম্মানিত ছিলেন, ওনার জন্য আমরা কখনও লজ্জিত হইনি, বরং সম্মান পেয়েছি। নামাজ পড়ি, তখনও মনে পড়ে, আব্বু আমাকে শিখিয়েছে। নিজেকে গর্বিত বোধ করি বুলবুল আহমেদ এর মেয়ে হিসেবে। আব্বুর কারণেই সবসময় সবকিছু সহজ হয় আমাদের। কিন্তু আজ চারদিকে শূন্যতা, শুধুই শূন্যতা।
সবচেয়ে বড় কথা এই দেশ ও জাতি বাবার সাথে যে ধোঁকাবাজি করেছে তা লজ্জা দেয় সবাইকে। আমরা গুণী মানুষদের জীবদ্দশায় সম্মান জানাতে শিখিনি। বাবা জীবিত থাকা অবস্থায় তাকে একুশে পদক দেবার কথা থাকলেও দেয়া হয়নি, মৃত্যুর পর মরোণত্তর দেবার কথা ছিল, সেও আজ এক বছর পার হয়ে গেল। তবে বাবা কোন জাতির জন্য এতকিছু করলো! এ সব ভাবতে গেলে লজ্জায় মাথা নত হয়ে আসে। আমি আমার ছেলে-মেয়েদেরও হয়তো আগামী এইসব কঠিন প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারবো না। আজ তাই এইসব স্মৃতিচারনও লিখতে ইচ্ছে করে না। আমাদের মানবিক শক্তি,অনুভূতিগুলো যেন ক্রমেই ভোঁতা হয়ে যাচ্ছে। ভেতরের আমার আমি’টা আর কারো’র ভেতরেই খুঁজে পাওয়া যায় না। সবাই যেন লেবাসধারী। লোক দেখানো হাসি হাসে, লোক দেখানো কান্না। তাই আমার এই স্মৃতিনোট বাবার উদ্দেশ্যেই। আব্বু তোমার ভেতরের যেই সরলতা দিয়ে মানুষদের মুগ্ধতা দিয়ে গেছ, তারা কেউ ই সেই সারল্য ধারণ করার যোগ্য নয়। অনেক কষ্ট, আক্ষেপ নিয়েই এ কথা গুলো লিখছে তোমার মেয়ে। ভাল থেকো বাবা। ভাল থেকো।
লেখক: ঐন্দ্রিলা আহমেদ
জাঁকজমক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হলো বাংলাদেশের যুবরাজ নায়ক শাকিব খানের জন্মদিন। গত ২৮শে এপ্রিল গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলের বলরম্নমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জন্মদিনে শাকিব খানকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলেন চলচ্চিত্র শিল্পী, পরিচালকসহ সাংবাদিকরা। এরা হলেন নায়করাজ রাজ্জাক, চলচ্চিত্রের ভাইয়া খ্যাত মাসুদ পারভেজ, মেগাস্টার উজ্জল, আনত্মর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী ববিতা, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত নায়িকা চম্পা, নায়করাজপুত্র বাপ্পারাজ, ঢালিউডের এক নম্বর নায়িকা শাবনূর, হ্যান্ডসাম হিরো অমিত হাসান, বর্তমান চলচ্চিত্রের অপ্রতিদ্বন্দ্বী খলনায়ক মিশা সওদাগর, শাকিব খানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু নায়ক ফেরদৌস, তার সর্বাধিক ছবির নায়িকা অপু বিশ্বাস, নায়িকা কেয়া, নিপুন, নায়ক নীরব, লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার মীম, সুপার হিরো সুপার হিরোইন মিমো, কাবিলাসহ আরও উপস্থিত ছিলেন শিল্পী সমিতির সভাপতি মিজু আহমেদ, পরিচালক সমিতির সভাপতি শওকত জামিল, প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন, খোরশেদ আলম খসরম্ন, সাধারণ সম্পাদক শরিফুদ্দিন খান দীপু, সহ-সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান লিটন, মোহাম্মদ হোসেন জেমী, শাহাদাত হোসেন লিটন, এমবি মানিক, সোহেল আরমানসহ আরো অনেক প্রযোজক, পরিচালক ও শিল্পী। অনুষ্ঠানে মিশা সওদাগরের উপস্থাপনায় শাকিব খানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ববিতা বলেন, শাকিব তোমার আজকের এই জন্মদিন অনুষ্ঠানে আমি দোয়া করি, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে যেন বাইরেও তুমি সাকসেস হয়। নায়করাজ রাজ্জাক বলেন, ও আমার ছেলের মতো। ওর সঙ্গে আমি প্রথম ‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবিতে কাজ করি। এরপর থেকে আরও অনেক ছবিতে। আমি তার কাজে তৃপ্ত। মাসুদ পারভেজ বলেন, শাকিব আমার ছোট ভাইয়ের মতো। শাকিব তোমাকে মনে রাখতে হবে, আজ তোমার আরেকটি বছর চলে গেল। সো, জীবনের চাওয়াগুলো পূর্ণ করো, খুব বেশী কিন্তু সময় থাকে না। ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, চলচ্চিত্রে এরকম জন্মদিন খুব একটা পালন করা হয় না। হ্যাপি বার্থডে শাকিব খান। এগিয়ে যাও, দূরে বহুদূরে। মিজু আহমেদ বলেন, জন্মদিন এত আয়োজনে হয়। সত্যিই বিস্ময়কর। অমিত হাসান বলেন, আমি তাকে সম্মান জানাই, যার গর্ভে শাকিবের জন্ম। সর্বশেষ শাকিব বলেন, প্রতি বছর আমি আমার জন্মদিনের সময় ঢাকার বাইরে, কিংবা দেশের বাইরে থাকি। এবার হঠাৎ দু’দিন আগেই আমার মা আমাকে ডেকে বললেন, এবারের জন্মদিন তুমি তোমার ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে পালন করো, যারা তোমার সঙ্গে রয়েছেন দীর্ঘদিন। মায়ের কথাতেই আমার এই আয়োজন। থ্যাংকস টু অল। এরপরই জন্মদিনের কেক কাটেন শাকিব খান। অনুষ্ঠানের শেষে ডিজে আয়োজন উপস্থিত অতিথিদের মাতোয়ারা করে তোলে।