29 December 2009

ক্যামেরার তারকা

তারকাদের নিয়ে কাজ করেন তিনি, এরকম অনেকেই করেন। কিন্তু তিনি সবার মতো না। একেবারেই অন্যরকম। এ কারণে হয়ে উঠেছেন নিজ ক্ষেত্রের তারকা ফটোগ্রাফার। কেউ বলেন, তিনি তারকাদের তারকা, কেউ বলেন, ক্যামেরার তারকা...। লিখেছেন মোস্তাক আহমেদ

ফটোগ্রাফি করে পেট চালানো যায় - এ কথা এক সময় হয়তো কেউ বিশ্বাস করতে চাইতো না। এর অবশ্য নির্দিষ্ট কিছু কারণও ছিল। সে সময় আমাদের শোবিজ অঙ্গন ছিল সীমিত পরিসরে। কিন্তু ধীরে ধীরে বদলে গেছে প্রেক্ষাপট। শোবিজ অঙ্গন বড় হওয়ার সঙ্গে বেড়েছে শোবিজ কর্মীদের সংখ্যাও। মডেল হওয়ার জন্য প্রথমেই যেতে হয় ফটোগ্রাফারের কাছে। শুধু তাই নয়, একজন মডেল নিজেকে নানাভাবে উপস্থাপন করতে চাইলে দ্বারস্থ হতে হয় দক্ষ ফটোগ্রাফারের। চাহিদা অনুযায়ী বেড়েছে ফটোগ্রাফারের সংখ্যাও। অনেকেই আগ্রহী হয়ে শখ করে ফটোগ্রাফিকে এখন পেশা হিসেবে নিচ্ছে। স্টাইল আর ফ্যাশন যত এগুবে ফটোগ্রাফির কদর বাড়বে ততই। যেমন বেড়েছে মডেল ফটোগ্রাফির তারকা ফটোগ্রাফার আশীষ সেন গুপ্ত'র কাজের কদর।

খুব অল্প সময়ে শোবিজের মানুষদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছেন মডেল ফটোগ্রাফার আশীষ সেন গুপ্ত। তারকাদের প্রিয় আশীষদা। এ সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ফটোগ্রাফার এবং শোবিজ জগতের বাসিন্দাদের কাছে 'হার্টথ্রব'। সকাল থেকে মধ্যরাত শোবিজের মানুষদের ছবি তোলা নিয়েই তার ব্যস্ততা। ক্যামেরার ফ্রেমে নানা ভঙ্গিমায় বন্দি করে চলেছেন তারকাদের। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ আশীষ সেন গুপ্ত। ডাক নাম রুপু। জন্ম চট্টগ্রামের রাউজানের কোয়েপাড়া গ্রামে। ছোটবেলা কেটেছে প্রকৃতির সৃষ্টি অবারিত সৌন্দর্যের মাঝেই। হয়ে উঠেন প্রকৃতিপ্রেমী। অনেকটা শখের বসেই পাহাড় সবুজ ঘেরা অরণ্যের ছবি তোলা শুরু করেন আশীষ। পাহাড়, পাখি, প্রজাপতি, সবুজ অরণ্য হয়ে উঠে তার ছবি তোলার বিষয়। শুরুতে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাকে। কঠোর অধ্যবসায় এবং প্রতিভা মানুষকে সাফল্য এনে দেয় - একথা প্রমাণ করে দিয়েছেন আশীষ।

ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স শেষ করার পর ঢাকায় এসে ভাই অসীম সেন গুপ্তের এডভার্টাইজিং অফিসে যোগ দেন। তাদের কোম্পানির স্টিল ফটোগ্রাফার মরহুম আহমেদুর রহমান খোকার সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে। মনের সুপ্ত বাসনাটি আবার নাড়াচাড়া দিয়ে উঠে। এর মধ্যে বেগ ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ নেন। তারপর ভাই অসীমের অনুপ্রেরণায় আশীষের জীবনে একদিন আসে স্বপ্ন পূরণের সেই ক্ষণ। যার অপেক্ষায় বহুদিন কাটিয়েছেন তিনি। ২০০৪ সালে ২ জুন যাত্রা শুরু করে আশীষের কাঙ্ক্ষিত ফটোগ্রাফার প্রশিক্ষণ আইক্লিক।

আশীষের প্রথম স্টেজ ফটোগ্রাফি ছিল জাতীয় জাদুঘরে সাদি মহম্মদের একক সঙ্গীত সন্ধ্যা। তারপর ছবি তোলেন ভারতীয় হাইকমিশনের হয়ে বাংলাদেশে অনুষ্ঠান করতে আসা কিংবদন্তিতুল্য সঙ্গীতজ্ঞ বিসমিল্লাহ খান। নৃত্যশিল্পী প্রিয়দর্শিনী গোবিন্দ এবং অভিনেতা ও আবৃত্তিকার সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের। এ প্রসঙ্গে আশীষ সেন গুপ্ত বলেন, এক্ষেত্রে আমার গুরু ফটোগ্রাফার খোকা ভাই। তার অনুপ্রেরণায় আর উৎসাহই আমাকে প্রফেশনাল ক্যামেরাম্যান করে তুলেছে।
'আইক্লিক' নামকরণের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে আমার কাছে মনে হয় - যে কারও আবেগ-অনুভূতি বহিঃপ্রকাশের সবচেয়ে সক্রিয় ইন্দ্রিয় হচ্ছে চোখ। সত্যিই চোখ মনের কথাই বলে। আর তাই স্টুডিওর নামকরণের ক্ষেত্রে চোখকেই প্রাধান্য দিয়েছি।
সেলিব্রেটিদের মধ্যে প্রথম ফটোসেশন করেন চিত্র নায়িকা মৌসুমীর। এভাবেই এক দুই করে এ অঙ্গনে ব্যস্ত এক তারকা বনে যান আশীষ সেন গুপ্ত। হয়ে উঠেন তারকাদের তারকা বা ক্যামেরার তারকা। এখন ছবি তোলাই যার ধ্যান-জ্ঞান। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আইক্লিক'কে আরও সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

27 December 2009

কেমন আছেন হুমায়ূন আহমেদ ও শাওন দম্পতি

ব্যস্ত সময় পার করছেন তারকা দম্পতি শাওন ও হুমায়ূন। জানা গেছে, চারজন বিখ্যাত লেখকের লেখা গান নিয়ে অডিও ক্যাসেট বের করছেন মেহের আফরোজ শাওন। লেখক চারজন হচ্ছেন হুমায়ূন আহমেদ, নির্মলেন্দু গুণ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও সমরেশ মজুমদার আপাতত কয়েকটি গানের সুর ঠিক করা হয়েছে। রেকর্ডিংয়ের কাজ এখনও ঠিক হয়নি। তাই কবে নাগাদ ক্যাসেট বাজারে আসতে পারে তাও বলতে পারছেন না শাওন। হুমায়ূন আহমেদ ও শাওন দু'জনেই এখন ব্যস্ত আছেন মেরিডিয়ান চ্যানেল আই ক্ষুদে গানরাজের বিচার কার্যে। এরই ফাঁকে ফাঁকে শুটিং করছেন শাওনের পরিচালনায় অসমাপ্ত নাটক এই মেঘ রৌদ্র ছায়া। হুমায়ূন আহমেদের লেখা এ নাটকটি ২০০৮ সালের শেষেরদিকে বেশ ক'পর্বের শুটিং শেষ করেছিলেন। মাঝে শাওনের থিসিসের ব্যস্ততার কারণে বাকি পর্বগুলোর শুটিং শেষ করা সম্ভব হয়নি। ক্ষুদে গানরাজের বিচার কার্য শেষ হওয়ার পর শাওন একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করবেন। আপাতত চলচ্চিত্রটি অনুদানের জন্য সরকারের কাছে জমা পড়েছে। শীবব্রত বর্মণের লেখা চলচ্চিত্রের নাম গৌরীপুর জংশন। এ সম্পর্কে শাওন বলেন, আমরা আশা করছি ছবিটির জন্য সরকারি অনুদান পাব। কারণ গল্পের কাহিনী খুবই ভাল ও হৃদয়স্পর্শী। এতসব ব্যস্ততার মাঝে হুমায়ূন আহমেদের প্রথম এবং প্রধান ব্যস্ততা হচ্ছে বইমেলাকে কেন্দ্র করে। এবারের একুশের বইমেলায় তার নতুন বই প্রকাশের জন্য তিনি লেখালেখি আর বই ছাপানো নিয়ে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন।

26 December 2009

পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত প্রভা

অভিনয় থেকে এক সপ্তাহ ছুটি নিয়েছেন সাদিয়া জাহান প্রভা। ঘুরতে যাওয়া বা বিশ্রামের জন্য নয়, তার ৬ষ্ঠ সেমিস্টার পরীক্ষার জন্যই এ ছুটি। শান্ত মারিয়ম কলেজে ফ্যাশন ডিজাইনিং ডিপার্টমেন্টের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্রী তিনি।ইমদাদুল হক মিলনের লেখা ও চয়নিকা চৌধুরীর পরিচালনায় রিমেক নাটক যতোদূর যাইতে পূর্ব অভিনীত শমী কায়সারের চরিত্রে অভিনয় করছেন প্রভা। এ সম্পর্কে প্রভা বলেন, এ নাটকে অভিনয় করতে গিয়ে আমি সারাক্ষণই ভয়ের মধ্যে থেকেছি। একটা শট শেষ করেই চয়নিকা বৌদিকে বলেছি, আমার অভিনয় হচ্ছে তো। শমী আপু এত বড় মাপের একজন শিল্পী। তার পরিবর্তে অভিনয় করছি ভেবে আরও বেশি ভয় পাচ্ছি। কারণ, আমি অনেকগুলো নাটকে অভিনয় করলেও দর্শক আমাকে মেরিলের মডেল হিসেবেই এখনও চেনেন। এখানে অভিনয় দর্শক কতটা গ্রহণ করবে এটাও একটা ভাবার বিষয়। বর্তমানে পরীক্ষার কারণে ২১-২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত শুটিং থেকে ছুটি নিয়েছেন প্রভা। ২৯ ডিসেম্বর থেকে আবার শুটিং শুরু করবেন। অভিনয় এবং পড়ালেখা কীভাবে সামাল দেন - এ প্রশ্নের জবাবে প্রভাব বলেন, আমি মূলত কলেজে ক্লাস করতে পারি না বললেই চলে। নোট এবং কলেজের অন্যান্য বিষয়ে আমার বন্ধুরা আমাকে অনেক সাহায্য করে।

25 December 2009

চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ ২০০৯ হলেন কোনাল

কোনাল (মাঝে), চৈতী (বামে) এবং নদী

মানিকগঞ্জের মেয়ে সোমনূর মনির কোনাল হয়েছেন চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠের বিজয়ী। গতকাল রাতে রাজশাহী স্টেডিয়ামে সেরা সাত প্রতিযোগী রিপন, শাকিলা, কোনাল, তিথি, চৈতী, নদী এবং রাফসানকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ-২০০৯ এর মহা উৎসব। দর্শকদের এসএমএস ভোট আর বিচারকদের রায় নিয়ে বর্ণাঢ্য এই উৎসবে বিজয়ী হয়েছেন কোনাল। প্রথম রানারআপ হয়েছেন চৈতী এবং দ্বিতীয় রানার হয়েছেন মৌমিতা তাশরীন নদী।

বিজয়ী হিসেবে কোনাল পেয়েছেন চ্যানেল আইয়ের পক্ষ থেকে আট লাখ টাকা, ফলগু পলিমারের পক্ষ থেকে সঙ্গীতে উচ্চ শিক্ষার জন্য তিন লাখ টাকা-সহ জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের সৌজন্যে পাবেন আজীবন চিকিৎসা সেবার সুবিদা। এছাড়া প্রথম রানারআপ এবং দ্বিতীয় রানার চ্যানেল আইয়ের পক্ষ থেকে পেয়েছেন পাঁচ লাখ টাকা (চৈতী), এবং তিন লাখ টাকা (নদী)। ফলগু পলিমার তাদের দিয়েছে যথাক্রমে দুই লাখ এবং এক লাখ টাকা করে। তাদের জন্যও আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাবে জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল। এছাড়া সেরা সাত প্রতিযোগীর জন্য ইউসিবি'র সৌজন্যে রয়েছে এক লাখ টাকা করে, রাজশাহীর সিটি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন দিয়েছেন ২৫ হাজার টাকা করে। এছাড়া তারা পেয়েছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আরো অনেক পুরস্কার।

বর্ণিল এই আয়োজনের শুরুতে ছিল 'এই জীবন পূর্ণ করো' রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে জনপ্রিয় নৃত্যজুটি শিবলী-নিপার নাচ। তাদের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন রাজশাহী অঞ্চলের নৃত্যশিল্পীরাও। এরপর প্রতিযোগিতার সাত প্রতিযোগী প্রজাপতির আদলে সজ্জিত গাড়িতে চড়ে মঞ্চে আসেন। তারা সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করেন 'তীর হারা এই গভীর সাগর'। আর ২০০৮-এর সেরা কণ্ঠের সাত শিল্পী গেয়ে শোনান 'সুর্যদয়ে তুমি' গানটি।

অনুষ্ঠানে প্রধান ৪ বিচারক রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসীমন, সুবীর নন্দী ও আলাউদ্দিন আলী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া শিক্ষাবিদ আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, রাজশাহী সিটি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন, চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। মহা উৎসব অনুষ্ঠানটি উপস্থানায় ছিলেন ফারজানা ব্রাউনিয়া।

23 December 2009

মা হচ্ছেন তনিমা হামিদ

নাট্যাভিনেত্রী তনিমা হামিদ অসুস্থতার কারণে বর্তমানে বিশ্রামে আছেন। শিগগিরই মা হচ্ছেন তিনি। আগামী বছরের মার্চ মাসে সময় নির্ধারণ করেছেন ডাক্তার। এ কারণেই তিনি বর্তমানে অভিনয়ে থকে কিছুটা দূরে সরে আছেন। ডাক্তারের দেয়া ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ীই এখন বলছেন। এমন সুখবরে শামসুদ্দিন হায়দার ডালিমসহ দুই পরিবারের সকলেই খুব খুশি হয়েছেন।

তনিমা হামিদ অভিনীত খোঁজ নাটকটি নিয়মিত বাংলাভিশনে প্রচার হচ্ছে, রাজীবুল ইসলাম রাজীব ও সজল চৌধুরীর রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন রাজীবুল ইসাম রাজীব। এছাড়া সমরেশ মজুমদারের রচনা ও ম. হামিদের পরিচালনায় এটিএন বাংলায় প্রচার হচ্ছে নাটক দায়বন্ধন। এ নাটকে তনিমা হামিদ ছাড়াও আরও অভিনয় করেছেন শাহেদ শরীফ, শাহরিয়ার নাজিম জয়, আহসান হাবিব নাসিম, ঈশিতা, নাদিয়া আহমেদ, গোলাম ফরিদা ছন্দা, আবুল হায়াত, ম. হামিদ, দিতি, ডলি জহুর, আফজাল শরীফ প্রমুখ।

নতুন অতিথির আগমন সম্পর্কে জানতে চাইলে তনিমা বলেন, এমন সুখবরে সবারই ভাল লাগার কথা। ছেলে হোক কিংবা মেয়ে একটি সুস্থ বাচ্চাই আমার কাম্য। তবে ডালিম বলেন, আমি অবশ্য দু'টো প্ল্যান করেছি। এ প্ল্যান, বি. প্ল্যান, অর্থাৎ ছেলে হলে এক প্ল্যানে আর মেয়ে হলে আরেক প্ল্যানে গড়ে তুলব। তবে অবশ্যই সুস্থ বাচ্চা কামনা করি।