26 July 2009

অবসরে জেমস্!

অবসরে আছেন জেমস্। যে বাজারে ধনী-গরিব নির্বিশেষে এখন সবাই নতুন অ্যালবাম তৈরি এবং প্রকাশের বিষয়ে উৎসবমুখর সেই বাজারে জেমস্ বসে আছেন নিশ্চুপ হয়ে। দর্শক হয়ে নীরবে ঈদের বাজারের প্রযোজক বনাম শিল্পী-সুরকারদের গোল্লাছুট খেলা উপভোগ করছেন আপন মনে। পুরনো সহযোদ্ধা গীতিকার দেহলভীকে নিয়ে নতুন অ্যালবামের প্রাথমিক কাজ শুরু করেও থামিয়ে দিয়েছেন সমপ্রতি। কথা ছিল এ অ্যালবামটির মধ্য দিয়ে জেমস্ আবারও জ্বলে উঠবেন 'দুঃখিনী দুঃখ করোনা'র মতো করে। কারণ মান-অভিমান ভুলে এবার তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন গীতিকার দেহলভী। সে যাই হোক, চলতি সপ্তাহে হঠাৎ করেই অ্যালবাম প্রসঙ্গে জেমস্ জানান, না অ্যালবাম করছি না। এই ঈদটায় অ্যালবাম প্রকাশে অবসর নিয়েছি। দেশ-বিদেশে স্টেজ শো করছি, ভাল আছি। নতুন অ্যালবামের কাজ তৈরি করেও থামিয়ে দিলেন। কণ্ঠে খানিক অভিমানের সুর। একটু খুলেই বলুন না। জেমস্ বলেন, একটা অ্যালবাম তৈরি করতে কত মেধা, সময়, শ্রম, অর্থ আর ভালবাসার বিনিয়োগ হয় সেটা অন্যদের বুঝার কথা নয়। আমি অন্যের অ্যালবামের কথা বলছি না, আমার কথাই আমি বলছি। কারণ আমি ছাড় দিতে শিখিনি, জানিও না। আমার কাজ আমার কাছে আগে শতভাগ নম্বর পেতে হবে তারপর যাবে প্রযোজক-পরিবেশক হয়ে শ্রোতাদের কাছে। আর অ্যালবাম হিট-ফ্লপ নিয়েও আমি ভাবি না। সেটা আরেকটা ব্যাপার। একটা মানুষ সারাজীবন কোয়ালিটি মেনটেইন করে চলতে পারে, তবে সারাজীবন হিট গান পয়দা করতে পারে না। যাই হোক আমি যে একটা অ্যালবাম তৈরি করবো সেটা প্রকাশ করার মতো সামর্থ্যওয়ালা প্রযোজক কই? আমি তো দেখছি না। তাহলে অ্যালবাম তৈরি করে নিজেই ফেরি করবো নাকি। সঙ্গে এও বলি, প্রতি বছর অ্যালবাম প্রকাশ করতে হবে এমনও তো কথা নেই। অ্যালবাম না বের করলে আমি হেরে যাবো, পচে যাবো- আই ডু নট বিলিভ দিস টাইপ অব রাবিস গসিপ। আমি আমার মতো করে ভাল আছি এবং থাকবো। এ আত্মবিশ্বাস আছে। প্রশ্ন ছিল একক না হয় করছেন না, এই ঈদে অন্য কোন দ্বৈত অ্যালবাম করছেন কি? অনেক দিন তো এমন অ্যালবাম হচ্ছে না। জেমস্ ফের একই সুরে আরেকটু ধারালোভাবেই বলেন, একদমই না। এসব অ্যালবাম তৈরি করে প্রকাশের মতো শক্ত মেরুদণ্ড এখনকার প্রযোজক-আয়োজকদের মধ্যে নেই। হলে অবশ্যই করবো। অতীতে করেছি না? এ তো নতুন কিছু নয়। স্টেজ শো'র দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চলতি সময়ে সর্বোচ্চ জনপ্রিয় এবং দামি তারকা জেমস্। যিনি বরাবরই অডিও অ্যালবামসহ ক্যারিয়ারের প্রায় প্রতিটি বিষয় হিসাব করে চলেন অর্থ সম্মানী এবং কাজের মানকে সর্বোচ্চ বিবেচনার মধ্য দিয়ে। এ কারণে সংগীতের দীর্ঘ সফল ক্যারিয়ারে কাজের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। সফলতা সে অনুপাতে অনেক বেশি। যদিও সব শেষে একটি এনার্জি ড্রিংক-এর বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে খানিকটা অবিচার করেছেন নিজের সফল স্বচ্ছ ক্যারিয়ারের প্রতি। জেমস্ ঘরানার দর্শকরাও খানিক মনোকষ্টে ভুগছেন এ বিজ্ঞাপনটির দুর্বল নির্মাণ শৈলীর বিচারে। জেমস্ বলেন, এ বিষয়ে আমিও খানিকটা ওয়াকিবহাল। বিষয়টা হচ্ছে আমি ভিডিও নির্মাতা নই। আর টাকার লোভে পড়ে খারাপ কাজ করেছি সেটাও নয়। আবার এটাও সত্যি বিজ্ঞাপনটি তার টার্গেট পিপলকে ভেবে তৈরি হয়েছে। ফলে সবার যে ভাল লাগবে তাও নয়। তবে যাদের ভাল লাগেনি, তাদের জন্য সুখবর হচ্ছে আমি আবারও নতুন বিজ্ঞাপনে নতুনভাবে আসছি। পণ্য একটাই, তবে এবারের নির্মাণশৈলী নতুন কিছু দেবে বলে বিশ্বাস। এখন সে পরিকল্পনাটাই চলছে। এদিকে জেমস্ সূত্রে জানা যায়, মুম্বই প্লে-ব্যাক, প্রীতমের সঙ্গে ব্যান্ড মেট্রো'র ঘোষিত ওয়ার্ল্ড টু্যর এবং হিন্দি অ্যালবাম তৈরির বাস্তবিক অর্থে নতুন কোন অগ্রগতি নেই। এখন দেখা যাক, মুম্বই কেন্দ্রিক ম্রিয়মাণ সংবাদ আর আসন্ন ঈদে নতুন অ্যালবাম না করার দায় নগর বাউল কতটা এড়াতে পারেন শুধু নতুন একটি বিজ্ঞাপনচিত্র দিয়ে।

22 July 2009

চ্যালেঞ্জার অসুস্থ - চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন আজ

জনপ্রিয় নাট্যাভিনেতা চ্যালেঞ্জার অসুস্থ। তার ব্রেন টিউমার ধরা পড়েছে। এ কারণে চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আজ। অসুস্থ অবস্থায়ও তিনি গতকাল মানবজমিন-এর সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জানান, গত ১৫ই জুলাই ল্যাবএইডে এক পরীক্ষায় তার মাথায় ২টি টিউমার ধরা পড়েছে। বাংলাদেশে এর ভাল চিকিৎসা না থাকায় তাকে সিঙ্গাপুরে যেতে হচ্ছে। তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। এদিকে দিন কয়েক আগ পর্যন্ত তিনি আবু সাইয়ীদের 'পাশাপাশি' ফেরদৌস রানার 'খুনসুটি' ও সৈয়দ শাকিলের 'চিড়িয়াখানা' নাটকের শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন।

15 July 2009

জয়া এবার যাত্রার প্রিন্সেস

এবার একটি নাটকে যাত্রার প্রিন্সেসের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ভার্সেটাইল অভিনেত্রী জয়া আহসান। এ প্রসঙ্গে জয়া বলেন, নাটকে আমি যাত্রা অভিনয়ের ফাঁকে ফাঁকে নেচে গেয়ে আনন্দ দিই। আমাদের যাত্রা দল এক গ্রামে যায় যাত্রা করতে। এসময় পাঞ্জাবি পরিহিত এক যাত্রা দর্শকের সঙ্গে আমার ঘটনাচক্রে প্রেম হয়ে যায়। কিন্তু যাত্রা মালিক এ প্রেমে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। একসময় তাদের নিভৃত আলাপচারিতায় এই যাত্রা মালিক এক গ্রামবাসীর সঙ্গে মিলে তার ভালবাসার মানুষটিকে গণপিটুনি দেয়। শেষ পর্যন্ত তাদের মিলনের মাধ্যমে শেষ হয় নাটকের কাহিনী। সুমন আনোয়ারের রচনা ও পরিচালনায় 'পাঞ্জাবিওয়ালা' নাটকে এমনই এক ব্যতিক্রমী চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান। এদিকে জয়ার অভিনয়ে বেশ কয়েকটি নাটক বর্তমানে কয়েকটি টিভি চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে। মেজবাউর রহমান সুমনের 'তারপরেও আঙ্গুরলতা ভালবাসে নন্দকে' নাটকের শুটিংয়ের কাজ শিগগিরই শুরু হবে। এ নাটকে জয়ার বিপরীতে অভিনয় করছেন নাট্য নির্মাতা অনিমেষ আইচ। এছাড়াও বেশ কয়েকটি নাটকের শুটিংয়ের কাজ চলছে বলে তিনি জানান। ছোট পর্দার এ তারকা অভিনেত্রী তার প্রথম ছবি মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর 'ব্যাচেলর'-এর পর নূরুল আলম আতিকের 'ডুব সাঁতার' নামের একটি ডিজিটাল ছবিতে অভিনয় করেছেন। ছবিটি এখন মুক্তির অপেক্ষায়।

08 July 2009

বিব্রত বিউটি-সালমা

'তুমি দিওনাগো বাসর ঘরের বাত্তি নিভাইয়া', চলতি সময়ের সর্বাধিক আলোচিত এবং সমালোচিত গান এটি। গানটির গায়কী ঢং, হিন্দি গানের নকল সুরের দোলায় এরই মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। শহর থেকে গ্রামের নিম্নবিত্ত শ্রোতাদের প্রায় প্রতিটি ডিজিটাল মোবাইল সেটে এই গানটি ব্যাপক রসদ জোগাচ্ছে। আর গান ডাউনলোড করা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই একটি গান দিয়ে নিকট অতীতের সর্বাধিক ব্যাবসা করছেন বলে অভিমত পাওয়া যায়। এর আগে একই ঘরানার আকাশছোঁয়া ব্যবসা হয়েছে ইমন খানের বিরহী ঘরানার গান 'আজো প্রতি রাতে জেগে থাকি তোমার আসায়' গানটি দিয়ে। এদিকে এ গানটির মূল শিল্পী বিউটি হলেও অনেকে জানছেন সালমার গান হিসেবে। গানটির কণ্ঠ আর বাজারে সালমার অব্যাহত জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে এই গানটিকে গান ডাউনলোডকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রেতাদের কাছে সালমার গান হিসেবেই চালিয়ে দিচ্ছে। আবার এ গানের মূল শিল্পী বিউটি হলেও এই বিউটি সেই বিউটি নন। অর্থাৎ ক্লোজআপ তারকা বিউটি এই গানে কণ্ঠ দেননি। যদিও অনেক শ্রোতা এবং সমালোচকদের অ্ন্তত অর্ধেক জানেন, এ গানটি ক্লোজআপ ওয়ানের বিউটিই গেয়েছেন। বাকি অর্ধেক জানেন এটি গেয়েছেন সালমা। মজার বিষয় হচ্ছে বিউটি-সালমার নামে সারা দেশে আলোচিত-সমালোচিত হওয়া এই গানটি আসলে কোথা থেকে এসেছে সেটা হলফ করে তেমন কেউ জানেন না। কেউ বলেন, এটি বোধহয় অশ্লীল ভিসিডি'র অখ্যাত কোন প্রতিষ্ঠানের গান। কেউ বলছেন এটি একটি সিনেমার আইটেম সঙ। তবে গানটির উৎস নিয়ে সবাই সন্দিহান থাকলেও এটুকু অন্তত নিশ্চিত ছিলেন এটি সালমা অথবা বিউটিই গেয়েছেন। এ প্রসঙ্গে সালমার সঙ্গে আলাপ করলে তিনি বলেন, ভাই এই একটি গান নিয়ে দেশ-বিদেশে কি পরিমাণের বিপদে পড়ছি সেটা না দেখলে বুঝবেন না। স্টেজে গেলেই এই একটি গানের হাজারো অনুরোধ। এখানেই শেষ নয়, এ গানটি আমার মনে করে অনেকেই খুব বাজে সমালোচনা করে আমাকে নিয়ে। কেউ সামনে কেউ পিছনে। অথচ এই গানটি কি করে আমার হয়ে গেল সেটা আজও বুঝলাম না। একবার শুনেছি বিউটি আপু গেয়েছে, কিন্তু আমার বিশ্বাস হয়নি। তবে গানটির কণ্ঠের সঙ্গে আমার কণ্ঠের অনেক মিল আছে, শুধু এ কারণেই আজ আমি বিব্রত-অভিযুক্ত। সালমা আরও জানান, এই বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া খুবই প্রয়োজন। তা না হলে আমার প্রিয় শ্রোতারা আমাকে ক্ষমা করবে না। এদিকে বিউটির সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, এটি তার গাওয়ার প্রশ্নই আসে না। এখনও এতটা নিচে নামার মতো অবস্থা তার হয়নি। তবে তিনি এটুকু বলেন, এই গানের শিল্পী আরেক বিউটি। এই গানটি মূলত একটি সিনেমার হলেও পরে এটি 'প্রেম কুমারী' নামের একটি টপটেন অ্যালবামে অডিও আকারে প্রকাশ পেয়েছে মাস দেড়েক আগে। বিশ্বস্ত সূত্রে আরও জানা গেছে, পর্দার আড়ালে থাকা এই বিউটি ক্লোজআপ ওয়ান-০৮ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সেরা ৪০ এর পর বাদ পড়েছে। সে এখন এ ধরনের টপটেন ঘরানার অশ্লীল গানের শিল্পী হিসেবে বেশ চাহিদাসম্পন্ন গায়িকা।

07 July 2009

সামিনা ক্ষুব্ধ

বেজায় চটেছেন সামিনা চৌধুরী। সদা সোজা-সাপ্টা কথা বলা এ সংগীত তারকাকে এমনিতেই দারুণ সমীহ করে চলেন সংগীত সংশ্লিষ্টরা। অবস্থান ভেদে সমীহের রূপ বদলালেও সিনিয়র থেকে জুনিয়র পর্যন্ত প্রায় সবাই সামিনার সোজা-সাপ্টা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। যার ফলে অন্য শিল্পীদের সঙ্গে যেমন তেমন সামিনা চৌধুরীর সঙ্গে কথা আর কাজের ব্যত্যয় ঘটানো মানেই বিপদ। এর পরেও ইন্ডাস্ট্রির নানামাত্রিক প্রযোজক, সুরকার, আয়োজকের কাছ থেকে নিস্তার মিলছে না কোনভাবেই। এ নিয়ে দারুণ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন এই স্বনামধন্য শিল্পী। সমপ্রতি কথা দিয়ে কথা না রাখার মতো পরপর তিনটি ঘটনা ঘটেছে সামিনার ক্যারিয়ারে। যার সর্বশেষ শিকার হয়েছেন জনপ্রিয় গীতিকার সুরকার প্রিন্স মাহমুদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে। প্রিন্স মাহমুদ নিজের মতো করে অনেক দিন ধরেই গান করছেন কুমার বিশ্বজিৎ-এর একটি অ্যালবামের। প্রথমে এটি ছিল একক, নাম ছিল 'মেঘনীলা'। পরে সেটাকে ভেঙে কুমার বিশ্বজিৎ-এর সঙ্গে যোগ করেন সংগীতের জনপ্রিয় দুই বোন ফাহমিদা নবী ও সামিনা চৌধুরীর গান। এ নিয়ে শেষ ক'মাস বিচ্ছিন্নভাবে নানা সংবাদ প্রকাশ হলেও বরাবরই অস্বীকার করে আসছিলেন সামিনা চৌধুরী। তিনি হলফ করেই বলেছেন, না প্রিন্সের সঙ্গে এ ধরনের কোন আলাপই আমার সঙ্গে হয়নি। এটা ভুল তথ্য। আমি এমন কোন অ্যালবামে গাইছি না। সামিনার এমন কথার বিপরীতে গেল সপ্তাহে সর্বশেষ প্রিন্স মাহমুদ সে অ্যালবামটির নতুন নাম ঘোষণা দেন। যার নাম 'বন্ধু গো শোন'। সঙ্গে এও হলফ করে বলেন, এ অ্যালবামে সামিনা চৌধুরীর গানও থাকছে। প্রিন্স মাহমুদের এমন ঘোষণার পর আবারও এ বিষয়ে সামিনার দৃষ্টিপাত করলে একরকম অসহায়ের সুরেই তিনি বলেন, আমি আসলে কি করবো? কার কাছে যাবো। প্রিন্সের কাছে আমার গান থাকতেই পারে। তার মানে তো এই নয়, আমার অবর্তমানে যখন তখন একটা অ্যালবাম তৈরি করবে এবং সেই সংবাদ পত্রিকা থেকে আমাকে জানতে হবে। এটাতো স্বাভাবিক সৌজন্যতার ব্যাপার। সামিনা চৌধুরী শুধু এখানেই ক্ষুব্ধ নন। তিনি আরও ক্ষেপে আছেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সংগীতা এবং অ্যালবাম প্রযোজক নোমান রবিনের ওপরও। এর মধ্যে সংগীতা 'ইত্যাদি'তে প্রচারিত একটি গান দিয়ে সামিনা চৌধুরীর একক অ্যালবাম হিসেবে একটি অ্যালবাম প্রকাশ করে কোন প্রকার আলাপ ছাড়াই। অন্যদিকে নোমান রবিনের প্রযোজনায় লেজার ভিশনের পরিবেশনায় 'বৃষ্টির গান' শীর্ষক একটি মিশ্র অ্যালবামের গান গাইলেও তার সম্মানী উদ্ধার করতে পারছেন না গেল প্রায় মাস ছয়েক ধরে। সামিনা বলেন, নোমান রবিনের কাছে আমি এখনও সাড়ে তিন লাখ টাকা পাবো। অ্যালবাম রিলিজ হয়ে গেছে। এখন আর রবিনকে খুঁজে পাচ্ছি না। অথচ এ অ্যালবামে গান করার জন্য ও আমার পায়ে পর্যন্ত পড়েছে। পরে চুক্তিপত্র করে গাইলাম। আর এখন নাকি ও বাইরে বলে বেড়াচ্ছে আমি টাকা ছাড়া কিছু বুঝি না। এখন চাইলে মামলা করতে পারি। লাভ কি? অন্যদিকে সংগীতা যা করেছে সেটা আরও দুঃখজনক।

05 July 2009

৬৪তেও নবীন আবুল হায়াত

দারুণ ব্যস্ত আবুল হায়াত। ৬৪ বছর বয়সেও নবীন তিনি। ব্যস্ততাকে সঙ্গী করে পথ চলছেন বেশ গতি নিয়ে। কর্মজীবন থেকে অবসর নিলেও ব্যাপকভাবে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন মিডিয়ায়। সকাল-সন্ধ্যাই ব্যস্ত নাটকের শুটিংয়ে। চলচ্চিত্রেও নিয়মিত সময় দিচ্ছেন। সময় দিচ্ছেন মডেলিংয়েও। কিছুদিন আগেও নাটক পরিচালনায় সময় দিলেও বর্তমানে তিনি অভিনয়কেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। আর এজন্য আপাতত নাটক পরিচালনা করছেন না। মিডিয়ায় চাহিদাসম্পন্ন তারকাদের অনেকেই যেখানে ক্লান্ত হয়ে অবসর খোঁজেন সেখানে তার পছন্দ আরও ব্যস্ততা। যেন তরুণের চাইতেও তরুণ তিনি। তিনি কি ক্লান্ত হন না? আবুল হায়াত বললেন, ক্লান্ত তো আমি হই, কিন্তু অভিনয়কে আমি আমার মজ্জাগত করে নিয়েছি। এজন্য ক্ল্লান্তি লাগলেও অভিনয় কখনও থামিয়ে দেইনি কোন মুহূর্তের জন্য। সকালে উত্তরা, বিকালে পূবাইল, গভীর রাতে বাড়ি ফিরে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে পরবর্তী দিনের জন্য অপেক্ষা। আবুল হায়াত ক্ষুব্ধ বর্তমান বাজেটের সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দের পরিমাণ দেখে। তিনি বলেন, সংস্কৃতি হলো একটি দেশের মেরুদণ্ড। বর্তমান সরকারকে সংস্কৃতিবান্ধব মনে করা হলেও তারা সংস্কৃতি খাতে কম বরাদ্দ দিয়ে সংস্কৃতি কর্মর্ীদের প্রতি অবিচার করেছে। সংস্কৃতি খাতে অবশ্যই বরাদ্দ বাড়াতে হবে যদি এ মাধ্যমকে বাঁচাতে হয়। টিভি চ্যানেলগুলোতে একঘণ্টার নাটক কমে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক পর্বের নাটকই মানুষের পুরোপুরি মানোরঞ্জন দিতে পারে। চ্যানেলগুলোতে এক পর্বের নাটক কমে যাওয়া আমাদের নাটকের জন্য ইতিবাচক নয়। এদিকে চলচ্চিত্র অঙ্গনে সুস্থতা ফিরে এসেছে বলে মনে করেন আবুল হায়াত। তিনি বলেন, একটা সময় মানুষ হলবিমুখ হয়ে গিয়েছিল। এখন তো অনেকে হলের দিকে যাচ্ছেন। এ মাধ্যমে এখন অশ্লীলতা নেই বলে তিনি মত ব্যক্ত করেন। নাটকে নতুনদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য আহ্বান করেছেন আবুল হায়াত। এজন্য তিনি নাটক পরিচালক ও প্রযোজকদের আরও নতুন নতুন শিল্পীদের নাটকে সুযোগ করে দেয়ার জন্য আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে যারা কাজ করছেন তারা অনেক প্রতিভাবান। আমাদের সময়ে যারা এসেছিল তাদের অনেকেই এখানে এসে তারপর ধীরে ধীরে অভিনয়কে রপ্ত করেছে। কিন্তু বর্তমানের শিল্পীরা আগে থেকেই শিখে আসছে এবং খুব ভাল করছে। এফ জামান তাপসের পরিচালনায় 'অক্টোপাস' নাটকের শুটিংয়ের ফাঁকে তার সাথে কথা হচ্ছিল। কিছুদিন আগেও নিয়মিত নাটক পরিচালনায় থাকলেও বর্তমানে তার পরিচালনায় কোন নাটক আসছে না। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, অভিনয়কেই এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি আমি। আবার শুরু করবো তবে কবে থেকে শুরু করবো এখন বলতে পারছি না। নাটকে বর্তমান ব্যস্ততা সম্পর্কে তিনি বলেন, বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে আমার বেশ কয়েকটি নাটক চলছে। ঈদের জন্য 'পটল রাজা ফিল্মস্টার' নামে অনিমেষ আইচের একটি নাটকের শুটিংয়ের কাজ চলছে। চলচ্চিত্রেও নিয়মিত সময় দিচ্ছেন তিনি। সর্বশেষ মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর 'থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার' ছবির কাজ শেষ করেছেন। হাতে আরও কয়েকটি ছবির কাজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন। তারকা পরিবার তার। দুই মেয়ে ও তাদের জামাইও নাটকে অভিনয় ও নাট্য পরিচালনায় জড়িত। তিনি জানান, শৈশব থেকে তাদের অভিনয়ে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছি। বুঝতে শেখার পর তারা নিজেরাই তাদের নিজেদের আসন করে নিয়েছে।